সাংবাদিক পরিচয়ে মামলার বাদিকে গুম-খুনের হুমকি

0
IQSHA IT

রুদ্র রুহান:- বরিশাল সদরের উজিরপুর উপজেলার শোলক গ্রামের এক গৃৃহবধূকে সাংবাদিক পরিচয়ে মুঠোফোনে গুম ও খুনের হুমকী দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার সাভার মডেল থানায় নুরুজ্জামান নামের কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

তানিয়া আক্তারের সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখিত তথ্যমতে,তিনি উজিরপুর উপজেলার শোলক এলাকার মোহাম্মদ আলাউদ্দীনে মেয়ে। দুবছর রাজিয়া ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মহব্বতপুর এলাকার এনামুল কবির মুন্না নামের এক ব্যক্তি সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গেলে সুকৌশলে মুঠোফোনে তানিয়ার কিছু ছবি ধারণ করে মুন্না। এর পরপরই পর্যায়ে সে ওইসব ছবি সে তানিয়াকে দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। নয়ত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে ঢাকার বিশেষ সাইবার আদালতের স্মরণাপন্ন হন তানিয়া। তিনি গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারী সাইবার অপরাধের অভিযোগ এনে মুন্নার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেণ। মামলায় আদালত মুন্নার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করে এবং এক পর্যায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই মামলায় একমাস হাজতবাস করে মুন্না।

তানিয়া জানান, গত ২৬ জুন তানিয়ার ফেসবুক আইডিতে Md. N Zaman নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে মুন্না তার সহকর্মি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বার্তা ( Text Massage) পাঠায়। বার্তায় তানিয়াকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে বলে এবং না করলে গুম করা হবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনা উল্লেখ করে তানিয়া তার বর্তমান আবাসস্থল সাভার থানায় ৩ জুলাই ২০১৮ তারিখ একটি সাধারণ ডায়েরি করেণ। এরপর গত তিন চারদিন ধরে ফের মুঠোফোনে তানিয়াকে ফের সাংবাদিক পরিচয়ে নুরুজ্জামান হুমকী দিতে থাকে। সবশেষ সোমবার ২৯ জুলাই রাত ৮:৫৩ মিনিটের সময় ০১৭২৩৫০৮৮৩২ নম্বর থেকে তানিয়ার নম্বরে ফোন করে নুরুজ্জামান সাংবাদিক পরিচয়ে ফের তানিয়াকে মামলটি তুলে নিতে বলেন। মামলা তুলে না নিলে তানিয়াকে গুম এমনকি হত্যা করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৩০ জুলাই মঙ্গলবার তানিয়া ফের একই থানায় আর একটি সাধারণ ডায়েরি করেণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুজ্জজামান নামের ওই ব্যক্তির সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মহব্বতপুর এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে। নামসর্বস্ব একটি অনলাইন পত্রিকা ও টিভির বিভাগীয় প্রতিনিধি পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে ওই এলাকার সাংবাদিক পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ে মানুষকে হয়রাণীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মূলত নামকাওয়াস্তে ওইসব পত্রিকার প্রতিনিধি পরিচয়ে এমনকি সাংবাদিকদের ভুয়া সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নিজেকে বিশাল মাপের এক সাংবাদিক জাহির করে মানুষকে হয়রানী করে অর্থ আদায়ই তার কাজ। এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান, নুরুজ্জামান মুলত টাউট প্রকৃতির লোক। অত্যন্ত ধূর্ত স্বভাবের এই লোক সাংবাদিকতার তকমা লাগিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থনি আদায় করে নেয়াই তার কাজ। এছাড়াও সে নিজেবক আইনজীবী সমিতির সদস্য পরিচয়ও দিয়ে আসছে। অথচ ওই উপজেলা আইনজীবী সমিতিকত খোঁ নিলে কয়েককজন আইনজীবী জানান, নুরুজ্জমান নামের কোনো আইনজীবী সেখানে নেই। এমন নামের কেউ তাদের সদস্য নেই।

ওই এলাকার মুল ধারার কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী জানান, নুরুজ্জামান নামের এই ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৬ জুলাই দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকী দেয়। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই ইউএনও সোনিয়া সুলতানা হুমকিদাতা নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। সত্যতা স্বীকার করে ইউএনও সোনিয়া সুলতানা মুঠোফানে জানান, নুরুজ্জমান নামের ওই ব্যক্তি কি কারণে এমন স্টাটাস দিয়েছেন আমার জানা নেই। তবে বিষয়টিতে আমি আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করেছি।

সাভার মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঠোফোনে জানান, বাদির অভিযোগের ব্যাপারে আমরা যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেবো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!