গুরুত্বপূর্ণ আসামীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

0
IQSHA IT

রুদ্র রুহান, বরগুনাঃ রিফাত শরীফ হত্যায় এখনো পর্যন্ত মোট ১০জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত ১২জন আসামীদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত ৫জন গ্রেফতার ও এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বুধবার ভোরে পুলিশের সাথে বন্দুকযদ্ধে নিহ হয়। কিলিং মিশনের অন্তত ২০ জন জড়িত ছিলো বলেও বেড়িয়ে আসছে পুলিশের তদন্তে। তবে আসামীদের ধরতে এখই সব প্রকাশ করতে চাইছে না তদন্তকারীরা।খুনীদের কেউ ই ছাড় পাবে না বলেও ফের হুশিয়ারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর।

বুধবার সকালে রিফাত শরীফকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নির্মমভাবেক কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডে অংশ নেয় নয়ন বন্ড বাহীনির গ্যাং গ্রুপ জিরো জিরো সেভেন। এ ঘটনার পরদিন বৃহষ্পতিবার সকালে নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বাদি হয়ে বরগুনা সদর থানায় ১২জনের নামোল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত ২নং রিফাত ফরাজী, ৪নং আসামী চন্দন, ৯নং আসামী হাসান, ১১নং অলি, ও ১২নং আসামী টিকটক হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১ নং আসামী নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার ৩নং আসামী রিশান ফরাজী, ৫ নং আসামী মুছা বন্ড, ৬ নং আসামী রাব্বি আকন, ৭নং আসামী মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নং আসামী রায়হান এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে সনাক্ত ও গ্রেফতার আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুসারে কামরুল হাসান সাইমুন, সাগর, তানভীর ও রাফিউল ইসলাম রাব্বি নামের ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
যদিও পুলিশ শুরু থেকেই বলে আসছে, আসামীরা তাদের নাগালের মধ্যেই আছে এবং শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে, কিন্ত ঘটনার প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এজাহারভুক্ত বাকি আসামীদের এখনো গ্রেফতার হয়নি। এ প্রসঙ্গে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবেনা, শুরু থেকেই আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করছি। বাকি আসামীদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনতে আমাদের কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
রিফাতের নেতৃত্বেই হয় কিলিং মিশন, সহায়তায় ছিল রিশান ফরাজীঃ গণমাধ্যমের কাছে আসা আর একটি সিসিটি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, ১০টা ৩ মিনিটের সময় বন্ড বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী ও ছোট ভাই রিশান ৬ থেকে ৭ জনকে নিয়ে কলেজের সামনে অবস্থান করছে। ১০টা ৬ মিনিটের দিকে ২/৩ জনকে কলেজের ভেতরে পাঠায় রিফাত ফরাজী। ১০ টা ৯ মিনিটে ঐ ২/৩ জনসহ আরো কয়েকজন কলেজের থেকে বের হয়ে কলেজ গেটের বিপরীতে এসে রাস্তার দাড়ায়। ১০টা ৯ মিনিটে যখন কলেজ থেকে স্ত্রী মিন্নিসহ রিফাত শরীফ বের হয় ঠিক তখনি তখনি রিশান ফরাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন রিফাত শরীফের পথ আগলে কিল ঘুষি মারতে মারতে সামনের দিকে নিয়ে আসে। এসময় এদের সামনের দিকে ছিল রিফাত ফরাজী। কলেজ গেটের ৫০ গজ দূরে নিয়ে দাড়ানো নয়ন বন্ডের সামনে এনে ৭/৮জন রিফাত শরীফকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। ঠিক এসময় রিফাত ফরাজী ও আরেকজন দৌড়ে গিয়ে রামদা নিয়ে আসে। রিফাতের হাতে থাকা ২টি দায়ের একটি দেয়া হয় নয়নের হাতে। আকেটি দিয়ে রিফাত ফরাজী কোপাতে থাকে রিফাত শরীফকে।
হত্যকান্ডে কমপক্ষে ২০ জন অংশ নেয় নানা ভাবে। পুলিশের তদন্তে বেড়িয়ে আসছে সেসব তথ্য। মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়াদের ৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল জবানবন্দি দিয়েছেন সাগর ও নাজমুল ইসলাম। এর আগে চন্দন, মো. হাসান, অলিউল্লাহ ও তানভীর হাসান জবানবন্দি দিয়েছেন। এই চারজনের মধ্যে প্রথম তিনজন এজাহারভুক্ত আসামি। পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁরা রিফাত শরীফকে কোপানোর সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ফেসবুকের মেসেঞ্জার গ্রুপ ‘বন্ড ০০৭ এ বার্তা পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন। হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রুপে আগাম কোনো আলোচনা হয়নি। তাই তাঁরা জানতেন না। এই হামলার নেতৃত্বে রিফাত ফরাজী এবং রিফাত শরীফকে প্রথমে কুপিয়ে যখমও করে সে, আর ঠিক তখনি নয়ন বন্ড উপর্যপুরি রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক যখম করে চলে যায়। রিফাত শরীফকে কলেজ গেট থেকে নয়ন বন্ডের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং কোপানোয় সহায়তা করে এবং রিফাতের ছোট ভাই রিশান ফরাজী। তাঁদের মধ্যে রিশান এখনো গ্রেপ্তার হননি।
এক কর্মকর্তা জানান, অলিউল্লাহ, তানভীরসহ অন্যরা জবানবন্দিতে বলেছেন, এই হামলায় ০০৭ গ্রুপের অন্তত ২০ জন ছোট দলে ভাগ হয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হামলার সময় পথচারী বা রিফাত শরীফের দলের কেউ যেন এগিয়ে আসতে না পারে, তা সামলানোর দায়িত্ব ছিল একটি দলের। আরেকটি দল নয়ন বন্ড, রিফাত-রিশান ফরাজীসহ অন্য হামলাকারীদের মোটরবাইকগুলো পাহারা দিচ্ছিল, যাতে হামলার পরে সবাই বিনা বাধায় পালাতে পারেন। কেবল সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে এত সাজানো–গোছানো হামলা হয়েছে বলে মনে করেন না স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, কয়েক মাস আগেও নয়নের দলের সঙ্গেই দেখা গেছে নিহত রিফাত শরীফকে। তবে সম্প্রতি নয়নের বিরোধী পক্ষের সঙ্গে ওঠাবসা করতে দেখা যায় রিফাতকে। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে চার আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!