রিফাত গ্রেপ্তার, নাগরিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিকৃয়া

0
IQSHA IT

বরগুনা প্রতিনিধি:-বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যা ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সকাল ১০টায় বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিফাত ফরাজীকে হাজির করা হয়। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাত ফরাজী দু’নম¦র আসামী। রিফাতকে গ্রেপ্তারের পর এক সুধি সমাবেশে মিশ্র প্রতিকৃয়া ব্যক্ত করেছেন ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বরগুনা সরকারি কলেজ মাঠে এক সুধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বরগুনায় জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, পুুলিশ সুপার মারুফ হোসাইনসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন। এসময় উম্মুক্ত আলোচনায় কয়েকজন অভিভাবক রিফাত হত্যাকান্ডে জরিতদের বিগত দিনের কর্মকান্ড তুলে ধরেন পুলিশি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এসময় রিফাত ফারাজী হত্যায় সরাসরি জরিত রিফাত ফরাজীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বরগুনার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ ফারুক সিকদার অভিযোগ করে বলেন, এই ঘটনায় জরিতদের বিগত দিনের কর্মকান্ডের ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করেছি। এদেরকে আমি একবার পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলাম। এর পরপরই জনৈক নেতা আমাকে ফোন করে হুমকী দিয়েছিল আমি তাকে বলেছি, আমি মামলা করবোনা, আপনি থানা থেকে তাকে মুক্ত করে নিয়ে যেতে পারেন। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের আদনান অনিক বলেন, এই আসামীদের বিরুদ্ধে আমি গত ৬ মাস আগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনও করেছি, তাদের পুলিশেও দিয়েছি। কিন্ত অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিভাবক একজন নারী অভিযোগ করে বলেন, কলেজর পেছনে ও দক্ষিণ পাশের সড়কে সন্ধ্যার পরপরই মাদকের আড্ডা বসে, আমি একদিন প্রতিবাদ করার পর আমার ছেলে বাসায় এসে ওদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বারণ করে বলে, মা তুমি কিছু বললে আমাকে ওরা মারধর করবে। আরও কয়েকজন ছাত্র ও অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, এই ছেলেরা কলেজ ক্যম্পাস মাদক, ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডের মুল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। আমরা ভয়ে প্রতিবাদ করিনি। কারণ, অভিযোগ করলে পরেরদিনই আমাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের খড়গ নেমে আসবে। সূধি সমাবেশে দেড় হাজারের মত অভিভাবক-শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ দাবি করেণ, এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বা কলেজ কর্তৃপক্ষ কেউ কখনোই কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বলেন, নয়ন-রিফাতসহ এদের সহযোগীরা কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল। তাদের ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতনা। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা বলেছি। তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলেন, ভয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ দেইনি। তবে তিনি দু’বার এদের কয়েকজনকে পুলিশে সোপর্দ করলেও ওইদিন আবার ছাড়া পেয়ে পরেরদিন ফের কলেজ ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াত। আমরা তাদের কাছে জিম্মি ছিলাম। সন্ত্রাসী রিফাত যেন কোনোভাবে আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে না আসে, আমাদের এটাই অনুরোধ ও দাবি।
এসময় বক্তব্যে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোসÍাইন বিল্লাহ বলেন, অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার ছেলে স্কুল কলেজে আদৌ পৌঁছায় কিনা, কার সাথে আড্ডা দেয়, সন্ধ্যার পরে বাসার বাইরে সাথে কিনা এসব ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখা আপনদের কর্তব্য। ছেলে মেয়েদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ একজন সচেতন অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। জেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে সবাইকে সহায়তা করবে বলে তিনি আশ^াস দিয়ে তিনি মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা ।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসাইন বলেন, যেসব স্থানে সন্ধার পর মাদকের আখড়া বসে আমরা সেসব স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো। শহর ও এর আশপাশের চিহ্নিত এসব স্থানে অভিযান পরিচালনায় তিনি ডিবির পরিদর্শক ও সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। দুপুর আড়াইটার দিকে সূধি সমাবেশ শেষ হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!