হিলি দিয়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা নয়ন বন্ডের

0
IQSHA IT

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যার ৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি প্রধান দুই খুনি নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী।

পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও তাদের মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি মাত্র তিনজন। তবে শনিবার বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেছেন, মামলার সব আসামিকে ২ দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, প্রধান আসামি নয়ন বন্ড দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সীমান্তে রেড অ্যালার্ট থাকায় সে পালাতে ব্যর্থ হয়। তবে পুলিশ বলছে, তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। অপর এক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করত এ নয়ন বন্ড।

নয়ন বন্ডের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানান, বরগুনা শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসায় মাকে নিয়ে থাকলেও নয়ন বন্ডের আদি বাড়ি পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায়। বরগুনায় জমি কিনে বাড়ি করেছে তার সিঙ্গাপুর প্রবাসী বড় ভাই মিরাজ। নয়ন বন্ডের মামা আ. খালেক ছিলেন বরগুনা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা। এই খালেক এক সময় বরগুনা সরকারি কলেজের উচ্চমান সহকারী ছিলেন। তিনিও ছিলেন নয়ন বন্ডের আরেক খুঁটি। বরগুনা সরকারি কলেজে অবাধ বিচরণ এবং ক্যাম্পাসে প্রভাব খাটানোর ব্যাপারে মামা খালেকের প্রশ্রয় পেত সে।

ওই আত্মীয় আরও জানান, ২৬ জুন হত্যার ঘটনার পর নয়ন বন্ড পাথরঘাটার সুন্দরবন এলাকা হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে ভেবে পুলিশ যখন পাথরঘাটা এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে নয়ন তখন পুরাকাটা ফেরি পার হয়ে আমতলী গলাচিপা হয়ে পৌঁছে গেছে দশমিনায়। সেখানে বুধবার রাত কাটায় সে। এরপর নৌ ও সড়ক পথে ভেঙে ভেঙে চলে যায় উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুর।

বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দিনের প্রথমভাগ পর্যন্ত চেষ্টা চালায় হিলি বর্ডারের চোরাপথ ধরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ায় পালাতে ব্যর্থ হয় সে। আত্মীয়পরিজনের সঙ্গে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল নয়ন বন্ডের। নিরাপত্তার স্বার্থে এরপর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে।

ধারণা করা হচ্ছে, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোর কোনো একটাতেই আত্মগোপন করে আছে নয়ন। এছাড়া রিফাত ফরাজীও সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী দেশে পালানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ন বন্ডের বাড়ি যে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা থানায় সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান বরগুনা সদর থানার ওসি আবীর হাসান মাহমুদ। দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে তার দেশ ত্যাগের চেষ্টার ব্যাপারেও তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান তিনি।
সূত্র- যুগান্তর

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!