বেড়েছে নদীর পানি, শেষ রাতে এক পশলা বৃষ্টি, সকালের আকাশে পূবে রোদ, পশ্চিমে মেঘ

0
IQSHA IT

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণী উপকূলের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে হালকা ঝড়ো হাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি হয়। বৃষ্টির স্থায়িত্ব ছিল ১৫ মিনিটের মত। এরপর থেকে আকাশ মেঘলা হয়ে গুমোট আকার ধারণ করে আছে।

নদ-নদীগুলোতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। বরগুনার বড়ইতলা ফেরিঘাটের খেয়া বোট চালক শহীদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদী শান্ত থাকলেও সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে নদী উত্তাল রয়েছে।

ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্র থেকে মাছধরার ট্রলার ও নৌকাগুলো তীরে ফিরতে শুরু করেছে। জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধূরী জানান, ফণির সতর্ক বার্তা জারির পর কোনো ট্রলার ঘাট ছাড়েনি, বরং সাগরে মাছ ধরারত ট্রলারগুলো ইতোমধ্যেই তীরে নিরাপদে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ৩৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তত রাখা হয়েছে। তবে শুক্রবার সকাল নাগাদ কেউ আশ্রয় নেয়নি। সকাল ১০টার পর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে ঝুঁকিপুর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বরগুনা নৌ বন্দরের বন্দর কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, বৃহষ্পতিবার সকাল থেকেই থেকে সব ধরনের রুটে নৌ যান চলাচল পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

বরগুনা পাউবো কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান জানান, ফণির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল জেলার পায়রা বলেশ্বর ও বিষখালী নদের পানি এক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরা কটাল হওয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানিও বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন থেকে চার ফুট পানি বাড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ন বাঁধগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয়েছে।

কলাপাড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টা নাগাদ ফণী পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!