ঘন্টায় ২৭ কিমি গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ৪-৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা|

0
IQSHA IT

ঘূর্ণিঝড় ফণীতে ৪-৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা||কাল সন্ধ্যায় আঘাত হানছে ফণী : ঘণ্টায় ২৭ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ফণী
বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় চলছে প্রচারণা
ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় দফায় দফায় সভা করছে বরগুনা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আওতাধীন বরগুনা জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র ১০ হাজারেও বেশি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগাম সতর্কতা হিসেবে বরগুনা অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে সবধরনের নৌযান চলাচাল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বরগুনা সিপিপির উপপরিচালক কিশোর কুমার জানান, সিপিপির আওতাধীন বরগুনা জেলার ৫ উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রসহ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্যোগ মোকাবেলায় সতর্কতামূলক প্রচার-প্রচারণাসহ আগাম সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

অপরদিকে বরগুনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিট অফিসার আলহাজ্ব হুমায়ূন কবির জানান, বরগুনা জেলায় তাদের প্রায় ৪শ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভলান্টিয়ার রয়েছে। যাদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উদ্ধারকারী সরঞ্জামগুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি সার্বিক বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, শুক্রবার (৩ মে) আঘাত হানতে পারে ‘ফণী’। তাই এটির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বরগুনা। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় সভা করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে আগাম প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। দুর্যোগের সতর্কতা নিয়ে জনসাধারণকে অবহিত করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে ৭টি কন্ট্রোল রুম। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি, বরগুনা প্রেসক্লাব ও লোকবেতারের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে জরুরি কন্ট্রোল রুম।

এদিকে বরগুনা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৫০টি ও রেড ক্রিসেন্টের অপর ৩টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ১ লাখ ২৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন জেলার ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবন, কমিউনিটি সেন্টার ও উপাসনালয় ভবনও প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থাও রাখার হয়েছে।

‘যেহেতু আবহাওয়া বার্তায় জলোচ্ছ্বাস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি এমন দুর্যোগের পর বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। তাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও চাপকল নিরাপদে ঢেকে রাখার জন্য গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উদ্ধার কাজের জন্য সড়ক পথ ও নৌপথে পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে জেলা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সিপিবি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই দুর্যোগের বিষয়ে যার যার অবস্থান থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

এদিকে, জেলার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির খান জানান, প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল টিম নিরাপদ, গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি সরঞ্জামসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!