‘আমি তালাক চাইনা, স্ত্রীর মর্যাদা চাই’

0
IQSHA IT

বরগুনা প্রতিনিধি ঃ বরগুনা জেনারেল হাসপতালের সার্জারী বিভাগ। চার নম্বর বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন একজন নারী। বয়স ২৩ কি ২৫ হবে, পুুলিশকে শরীরে বিভিন্ন স্থানে মারধরের দাগ দেখাতে দেখাকে ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তার কাছে কেঁদে কেঁদে বারবার বলছিলেন, ‘আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে, ধর্ষনের অভিযোগ থেকে অব্যহতি পেতে বিয়ে করে আমায় তালাক দিয়েছে নৌ সেনা সদস্য স্বামী। আমি তালাক চাইনি, স্ত্রীর মর্যাদা চেয়েছি’। স্ত্রীর মর্যাদা চাইতে শ^শুড়বাড়িতে গিয়ে গিয়ে শ^াশুড়ি দেবরদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বরগুনার শারমিন (২৫) নামের এক নারী। বর্তমানের তিনি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শারমিন জানান, তিনি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ধুপতি এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান সিকদারের মেয়ে। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বগা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাকের ছেলে নৌ বাহীনির সদস্য সাইদুল ইসলাম শিপলু’র সাথে শারমিনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে এক পর্যায়ের উভয়ের মধ্যে প্রনয় ও ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়। শিপলু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আট মাস ধরে শারমিনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে শিপুল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে নৌ বাহীনির উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে শারমিন। নৌ বাহীনির শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয়কে ডাকা হলে শিপুল সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে। নিরুপায় হয়ে ঢাকা জজ আদালতের আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় শারমিন। এতে সাড়া দিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ঢাকার মীরপুরে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সারমিনের ভাড়া বাসায় উভয়ে রাতযাপন করে। পরদিন বাসা থেকে অফিসে গিয়ে ফোনে তাঁর বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া অভিযোগ তুলে নিতে স্ত্রী শারমিনকে অনুরোধ জানালে শারমিন অভিযোগ তুলে নেয়। ২৮ ফেব্রুয়ারী সারমিনকে নিয়ে বরগুনা শ^শুড়বাড়িতে বেড়াতে আসে শিপলু। এসময় পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারণে বাবা ত্যয্যপুত্র করেছে ও সম্পত্তি বঞ্চিত করেছে এমন অযুহাতে শ^াশুড়ি কহিনুর বেগমের সামনেই পাঁচ লাখ টাকা জমি কিনতে যৌতুক দাবি করে সে। এতে অস্বীকৃতি জানালে এক পর্যায়ে গালিগালাজ করে ও তালাকের হুমকী দিয়ে উভয়েই ঢাকা চলে যায়। ঢাকা নেমে সরাসরি অফিসে চলে গিয়ে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ৬ মার্চ হঠাত করেই সে মীরপুরে শারমিনের বাসায় চলে আসে এবং রাতে থাকার পর পরেরদিন ৭ মার্চ অফিসে গিয়ে ফের ফোন বন্ধ করে। খোঁজ নিতে গেলে শিপলুর অফিসের লোকজন জানায়, গত ৫মার্চ শারমিনকে তালাক দিয়েছে শিপলু। এ খবর শোনার পর বরগুনা বাবার বাড়িতে চলে আসে শারমিন। তালাক প্রত্যাখ্যান করে ২৩ এপ্রিল বিকেলে পটুয়াখালীর বগা শিপলুদের বাড়িতে যায় সে। বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথেই শ^াশুড়ী ছেলেকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর শিপলুর নির্দেশে তালাকের একটি কপি হাতে দিয়ে চলে যেতে বলে শিপলুর মা শিল্পী বেগম। তালাকের কপি গ্রহন না করে বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায় শারমিন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে ননদ শিল্পী, শ্বাশুড়ি ডলি বেগম, চাচাত দেবর সজিব ও হৃদয় মারধর করতে করতে টেনে হিচড়ে বাড়ি থেকে বের শারমিনকে করে দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে ওইদিন অবস্থানের পর নিরাপত্তহীনতায় পরের দিন ২৪ মার্চ বরগুনা রওয়ানা করে বগা ফেরিঘাট পৌছুলে ফের সজিব ও হৃদয় জোর করে শিপলুদের বাড়িতে নিয়ে তালাকের কপি গ্রহন করার জন্য মারধর করতে থাকে। ওই এলাকার লোকজনের সহায়তায় বরগুনায় পৌঁছে বরগুনা জেনারেল হাসপতালে ভর্তি হয় শারমিন। বর্তমানে সে বরগুনা জেনারেল হাসপতালে চিকিৎসাধীন শারমিন বলেন, ‘আমি তালাক চাইনা, আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি ন্যয্য অধিকার চাই, আমি শিপলুর এ অন্যায়ের বিচার চাই’।

এ ব্যপারে যোগাযোগ করা হলে শিপলুর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে শিপলুর মা ঢলি বেগম মুঠোফোনে বলেন, ’নিয়মানুসারে তাঁেক আমার ছেলে তালাক দিয়েছে। পুত্রবধূর অধিকার চাওয়ার তার কোনো অধিকার নাই। তাই আমরা তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলেছি’।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির হোসেন মাহমুদ বলেন, হাসপাতাল সূত্রে আমরা বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগ পেলে ভিক্টিমকে আইনী সহায়তা দেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!