বিদ্রোহীদের চাপে কোনঠাসা আ.লীগ প্রার্থীরা

0
IQSHA IT

বরগুনা প্রতিনিধি:- চতুর্থ ধাপে বরগুনার পাঁচটি উপজেলায় ৩১ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ উপজেলার তিনটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাঁচজন নেতা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে শুধু আমতলী উপজেলায়ই তিনজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনের মাঠে সরব প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন ওইসব প্রার্থীরা। বিদ্রোহীদের চাঁপে প্রচারণার মাঠে একপ্রকা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।

জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বলছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেয়া ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাবি, তৃনমূলের মতামত না নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশি মত প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। জনগণের পছন্দের কারণে তাঁরা প্রার্থী হয়েছেন।

বরগুনা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোয়ন পেয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মুহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ ওলি। তাঁর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন গৌরীচন্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনির। মনিরুল উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ইউপি চেয়ারম্যন থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি ওই ইউনিয়ন থেকে পরপর দু’বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রায়াত সাধারণ সম্পাদক ও গৌরীচন্না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদের বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম। নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে মনির বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্ত তৃনমূলের মতামত উপেক্ষা করে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে স্বতন্ত্র (আনারস) প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত ভোট অনুষ্ঠিত হলে আমি নিশ্চিত বড় ব্যাবধানে নৌকার প্রার্থী আমার কাছে হেরে যাবে।’

সদর উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দিন রাত প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন শাহ মুহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ ওলি। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ সভাপতি ওলি উল্লাহ ওলি বলেন, মনির নির্বাচনে অংশ নেয়ায় আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনির বিভিন্ন এলাকায় নৌকার প্রচার কার্যালয়ে হামলা করেছে। এতে নৌকা সমর্থকের অনেকে আহত হয়েছেন, কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলের সাথে সভায় বসেছি আমরা। দল নৌকার জয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় মাঠে কাজ করছে। আমি আশা করি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা সদর উপজেলায় শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী ধোপে টিকবেনা, জয় আমাদেরই হবে।

আমতলী উপজেলা আওয়ামলী লীগ থেকে দলীয় প্রতীক (নৌকা) নিয়ে নির্বাচন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার জিএম দেলোয়ার হোসেন। তাঁর বিপরীতে মাঠে রয়েছেন তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরওয়ার ফোরকান ( আনারস), উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দীন আহমেদ (ঘোড়া) ও গাজী সামসুল হক। গাজী সামসুল হকের প্রার্থীতা প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়লেও পরে উচ্চাদালতের স্মরণাপন্ন হলে প্রার্থীতা ফিরে পান। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে গোলাম সরওয়ার ফোরকান বলেন, ‘ কেন্দ্রীয় নেতারা বলেছেন, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হতে পারলে দল তাঁকে গ্রহন করবে, তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। অপর দু’জন প্রার্থীর মধ্যে গাজী সামসুল আলম বলেন, মনোনয়নের ব্যাপারে তৃনমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাই আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জয়লাভ করলে দলের হয়েই কাজ করবো’।

পাথরঘাটা উপজেলায় নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন (দাদু)। ওই উপজেলা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবীর। তিনি বলেন, তৃনমূলের মতামত নিয়ে প্রার্থীতা বাছাই করা হলে আমিই এগিয়ে থাকতাম। নির্বাচনে যেহেতু বিএনপি আসেনি, তাই যাতে অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এ কারণে আমি প্রার্থী হয়েছি। আমি আশা করি বিপুল ভোটের ব্যাবধানে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে আমি নির্বাচিত হব।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ্ব জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতাকারী নেতাদের ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে দুএক দিনের মধ্যেই বৈঠক করবে জেলা আওয়ামী লীগ। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!